“বলিউডের বিশিষ্ট তারকাদের সঙ্গে একসাথে কাজ করতে পেরে দারুন লেগেছে”-সুদিপ্তা চক্রবর্তী

“বলিউডের বিশিষ্ট তারকাদের সঙ্গে একসাথে কাজ করতে পেরে দারুন লেগেছে”-সুদিপ্তা চক্রবর্তী
সুদীপ্তা চক্রবর্তী

বিকেলের ভোরের ফুল ”-এর ময়না হোক কিম্বা “ইষ্টি কুটুমের”-এর বাহামনি, নিজের অনবদ্য অভিনয় দক্ষতার জেরে বারবার জয় করেছেন বহু বাঙালি ফ্যানদের মন । কিন্তু শুধু বাংলায় আটকে থাকল না তাঁর প্রতিভা । সাম্প্রতিক “বস কুইছ দিনও কী বাত হে” হিন্দি গানের মাধ্যমে জয় করলেন বহু ভারতীয় ফ্যানদের মন। তিনি আর কেও নন টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুদিপ্তা চক্রবর্তী । করোনা , আম্ফান , কেরলের পৈশাচিক ঘটনা থেকে শুরু করে বলিউডে নিজের যাত্রার কাহিনি সবকিছু নিয়ে ফোনের ওপারে ধরা দিলেন সঙ্গে আনন্দ সংবাদ লাইভ-এর প্রতিনিধি আলাপন রায়

প্রশ্নঃ সাম্প্রতিক করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বলিউডের একটি গানে অন্যান্য বলি তারকাদের সাথে তোমাকে দেখা গিয়েছে , এ ব্যাপারে কী বলতে চাই ?

সুদিপ্তাঃ এই গানের কনসেপ্ট ডিরেক্টর, শ্রীতমা দত্ত আমার খুব ভালো বন্ধু । কাজের সুত্রে একে অপরের সঙ্গে পরিচয় হলেও ২ বছর হতে চলল আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক গড়ে উঠেছে । উনি একদিন ফোন করে কাজের কথাটা বলেন । আমারও ব্যাপারটা খুব ভাল লাগে । সুতরাং কাজটা করতে আমি রাজী হয়ে যায় । উনি আমাকে গানটা পাঠায় এবং কিভাবে কী শুট করতে হবে সব বিস্তারিতভাবে জানান । তখনও পর্যন্ত আমি জানতাম না কলকাতা থেকে আমি একাই এই গানে বলি তারকাদের সঙ্গে কাজ করতে চলেছি । যখন ভিডিও লিঙ্কটা প্রথম পাই তখন ব্যাপারটা জানতে পারি । এটা আমার কাছে খুব আনন্দের খবর । বলি-তারকদের সাথে এইভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পেরে দারুন লেগেছে আমার ।

প্রশ্নঃ এই গানের মাধ্যমে কী বলিউডে পথচলা শুরু ধরা যেতে পারে ?

সুদিপ্তাঃ এটা আমার বলিউডে প্রথম কাজ । যে যার বাড়ি থেকে গানটির শুট করা হয়েছে । ভবিষ্যতে বলিউড থেকে যদি কোনো কাজের সুযোগ পাই সম্ভব হলে নিশ্চয় তা করব । তার মানে এই নয় যে এই গানের মাধ্যমে আমি বলিউডে পথচলা শুরু করছি ।

প্রশ্নঃ সরকার থেকে তো খুব কম সংখ্যক মানুষ নিয়ে শুটিং শুরু করার অনুমতি পাওয়া গেছে, সেটা কী বাস্তবে সম্ভব হবে বলে মনে হয় ?

সুদিপ্তাঃ সম্ভব হবে না, এটা বলা ভুল । এর আগেও আমরা কম ইউনিট নিয়ে কাজ করেছি । কিন্তু ছোট ইউনিট নিয়ে কাজ করাটা তো আলোচ্য বিষয় নয় । গোটা বিশ্বে এখনও পুরোপুরি করোনা মুক্ত হয়নি । আর শুটিং তো দূরে দূরে থেকে করা সম্ভব নয় । হেয়ারম্যান, মেকাপম্যান, ড্রেসার ছাড়া তা সম্ভব নয় । কীভাবে কী হবে তা আমার জানা নেই । কিন্তু অর্থের জন্য হয়ত আমাদের প্রত্যেককে কাজ করতে হবে । কারন এতদিন আমরা বসে আছি তার জন্যে কোনো পারিশ্রমিক পাইনি । তাই যদি একান্ত এখন কাজ করতে হয় তবে তা অত্যন্ত নিরাপত্তার সঙ্গে করতে হবে । নিশ্চয় এর জন্য কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে । কারন এতগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তো কোনো কাজ শুরু হতে পারে না । সরকারি অনুমতি তো পেয়েছি । আমাদের অভিনয় জগতের অন্যান্য কলাকুশলীদের সঙ্গে একটা মিটিং হওয়ার কথা আছে । দেখা যাক সেখানে কী সির্ধান্তে আসা যায় ।

প্রশ্নঃ এই লকডাউনে বাড়িতে কিভাবে সময় কেটেছে ?

সুদিপ্তাঃ প্রথম এক সপ্তাহ খুব ভাল কেটেছিল । অনেকদিন পরে ছুটির আমেজ পেয়েছিলাম । বাড়িতে সবাই একসাথে থাকার সময় সচরাচর পাওয়া যায় না । তারপর ক্রমশ যতদিন কাটতে থাকে তখন বুঝলাম এভাবে দীর্ঘদিন কাজ ছেড়ে থাকাটা কতটা কষ্টকর । তার উপর এতদিন বাড়িতে বসে আছি তার জন্যে কোনো পারিশ্রমিক পাইনি । যার জন্যে সঞ্চিত অর্থ দিয়েই দিনগুলো অতিবাহিত করতে হয়েছে আমাদের । সেইদিক থেকে দেখলে সময়টা খুব একটা ভাল কাটেনি আমার ।

প্রশ্নঃ গৃহবন্দী সময়ে পরিবারকে কোন কোন কাজে সাহায্য করেছ ?

সুদিপ্তাঃ বাড়ির সমস্ত যাবতীয় কাজ করেছি আমি। ঘর পরিস্কার থেকে থালা-বাসন মাজা, জামাকাপড় পরিস্কার থেকে রান্নার সমস্ত কাজ সব সামলেছি । আগে ভাল করে রান্না করতে পারতাম না । এখন অনেক নতুন নতুন পদের রান্না শিখেছি । শুটিং থাকাকালীন তো এই সমস্ত কাজের দিকে নজর দেওয়া হত না । সকাল সকাল বাড়ি থেকে রওনা দিতে হত । তাই সময় পাওয়ার কারনে এই কাজগুলোর দিকে নজর দিয়েছি ।

প্রশ্নঃ সাম্প্রতিককালে কেরলে একটি হাতিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হল, এ ব্যাপারে তোমার মতামত কী ?

সুদিপ্তাঃ আনারসের মধ্যে বাজি তো মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী রাখতে পারে না । এইরকম জঘন্য মন-মানুষিকতার মানুষের জন্যেই হয়ত পৃথিবীর আজ এমন অবস্থা । আমরা যখন বাড়ীতে আটকে ছিলাম তখন পৃথিবীর অন্য সমস্ত প্রাণীরা মনের সুখে, নির্ভয়ে প্রকৃতির কোলে খেলে বেড়িয়েছে । ভাবতে গেলেও কষ্ট লাগে, মানুষ কতটা নিষ্ঠুর ও বর্বর হতে পারে । আমি যে কাউকে কিছু একটা খেতে দিচ্ছি যেটা খেয়ে সে হয়তো আর কোনো দিন পৃথিবীর আলো দেখতে পারবে না- এটা কতটা নৃশংসতার পরিচয় হতে পারে । জানি না মানুষের নৈতিকতা আর কবে ঠিক হবে ! এইরকম যদি চলতে থাকে তবে পৃথিবী থেকে আর কিছু বিলুপ্ত হক বা না হক, মানুষ বিলুপ্ত হলে আমি বেজায় খুশি হব । একজন মানুষ হিসাবেই বলছি, মানুষ ছাড়া পৃথিবীর অন্য সমস্ত প্রাণীরা মানিয়ে নিতে পারে । শুধু আজ পর্যন্ত মানুষই তা পারল না ।

প্রশ্নঃ ভাইরাস ও আম্ফানের জন্য সমস্ত মানুষ এখন বিধ্বস্ত, সেইসকাল মানুষদের উদ্দেশ্যে কী বলতে চাই ?

সুদিপ্তাঃ এই ভাইরাসের কারনে তো কত মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক আজও বাড়ী ফিরতে পারিনি । কাজ ছাড়া , ঘর ছাড়া তারা একেবারে চরম সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে । তার উপর আম্ফানের কারনে বহু মানুষের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । ভেঙ্গে গিয়েছে অনেক ঘর-বাড়ি । ইচ্ছা না থাকলেও তাদের এখন একে অপরের সঙ্গে একসাথে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই । তারা যতটুকু খাবার পাচ্ছে সবাই মিলে ভাগ-যোগ করে তা খেতে হচ্ছে । এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে তা হয়তো কেউ কোনোদিন কল্পনাও করেনি । সমাজের এমন অবস্থা দেখে আমি সত্যিই খুব চিন্তিত । যেখানে রাজ্যে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি সেখানে লকডাউন তুলে দিয়ে বলা হল, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন আর মানুষজন এইসব নিয়ম-কানুন লক্ষ্মী ছেলের মতো মেনে চলবে-এ ব্যাপারে আমি একদম আশাবাদী নয় । লকডাউন ওঠার পর আমরা দেখেছি মানুষ কিভাবে ভিড় করে রাস্তায় বেরোচ্ছে । তাদের দিক থেকেও তারা ঠিক । তাদের কাজ করতে হবে । অর্থ উপার্জন করতে হবে । নাহলে চলবে না নিজের ও নিজের সংসারের পেট । কিন্তু তাও এই পরিস্থিতিতে একটু ভয় থাকা মনে হয় উচিত । অনেক বাঙালি এখন ভাবছে, করোনা তাদের শরীরে কিছু করতে পারবেনা । তাহলে তো আর কিছু বলারই নেই । তাদের মনের জোরই যেন ঠিক হয় । যেন কোনো পরিবারের কোনো ক্ষতি না হয় । এটাই আমার প্রার্থনা । দেশের এমন অবস্থাতে আমি সত্যি খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি ।

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *