সায়েন্স সিটির রজত জয়ন্তী বর্ষ সূচনা করলেন সোনম ওয়াংচুক

0
50


নিজস্ব প্রতিবেদক:বিখ্যাত চলচ্চিত্র, থ্রি ইডিয়টস যাঁর কীর্তিকে সামনে রেখে, লাদাখের সেই প্রাণপুরুষ, সোনম ওয়াংচুক আজ আরম্ভ করলেন কলকাতার গর্ব সায়েন্স সিটির রজত জয়ন্তী বর্ষের শুভ সূচনা পর্ব । সায়েন্স সিটির 25 বর্ষ পদার্পণের এই সূচনা লগ্নে অনুষ্ঠান ভরিয়ে দিয়েছিল কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকেরা। তাদের সঙ্গে অবশ্য ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।

এদিন অনুষ্ঠান শুরু হয় সায়েন্স সিটি প্রাঙ্গণে সোনম ওয়াংচুক-এর হাতে বৃক্ষরোপন ও রজত জয়ন্তী বর্ষ উদযাপনের লোগো উন্মোচন এর মধ্যে দিয়ে। সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামের ভর্তি প্রেক্ষাগৃহে এরপর তিনি কিশোরমতি ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক অভিভাবিকাদের মধ্যে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় জানালেন লাদাখের মতো পাহাড়ি এলাকায় তাঁর অসাধ্য সাধনের কথা। সকলকে আমন্ত্রণ জানালেন তিনি লাদাখে তাঁর আরাধ্য পীঠস্থানে, যা তিনি এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীরা তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন, স্টুডেন্ট এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ (সংক্ষেপে SECMOL)। সকলকে সঙ্গে নিয়ে এই কাজ গড়ে তোলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। তিনি জানান বিকাশ এবং উন্নতির জন্য সৃজনশীল মনের খুব প্রয়োজন, এখনও প্রচুর কাজ বাকি। এই কাজে আরও অনেককে এগিয়ে আসতে হবে। আলোচনা প্রসঙ্গে সায়েন্স সিটির বিভিন্নমুখী কর্মসূচির তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আরো বলেন এই সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী শক্তি কখনও সহজে আসে না, এই পথ হল সাধনার পথ।

এদিন অনুষ্ঠানের সকলকে স্বাগত জানান সায়েন্স সিটি কলকাতার ডাইরেক্টর অনুরাগ কুমার। তিনি বলেন দীর্ঘ আঠারো মাস ধরে কোভিড যন্ত্রণা চলছে। আজ এই অনুষ্ঠানে সকলের সাথে মিলিত হতে পেরে সত্যিই আমরা খুশি। সায়েন্স সিটির 25 বর্ষ উদযাপন আজ শুরু হল। সোনম ওয়াংচুক-এর মতো প্রখ্যাত ছাত্রদরদী, সমাজকর্মী গুণী মানুষের মাধ্যমে শুরু করতে পেরে আমরা খুশি, সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা এরকম আরো কিছু অনুষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রীসহ সকলের জন্য উপহার দেব। তিনি আরো বলেন, আজ যাঁরা এই সভায় অংশ নিয়েছেন প্রত্যেককে আগামী এক মাস সায়েন্স সিটিতে ঢোকার ফ্রী পাস দেওয়া হবে।

এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়াম-এর ডাইরেক্টর জেনারেল অরিজিৎ দত্ত চৌধুরী। তিনি বলেন বিজ্ঞানমনস্কতা প্রচার ও প্রসারের জন্য এবং বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি বৃদ্ধিতে সায়েন্স সিটি সারা দেশে পঁচিশটি সায়েন্স সেন্টার এবং কুড়িটি ইনোভেশন হাবের মাধ্যমে কাজ করে চলেছে। অচিরেই এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিন অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম-এর ডাইরেক্টর ভি এস রামচন্দ্রন।
মূল আলোচনা পর্ব শেষে সোনম ওয়াংচুক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর খোলামেলা অথচ দূরদৃষ্টি সম্পন্ন গভীর চিন্তামূলক ভাবনার কথা ব্যক্ত করেন। এদিনের অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে তিনি বারবার সন্তোষ প্রকাশ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here