নাট্যম কলা মন্দির-এর মনোজ্ঞ নৃত্যানুষ্ঠান

0
50

নিজস্ব প্রতিনিধি:বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা যখন ক্রমশ সুস্থ সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, চটুল গান,উত্তেজক নাচের মধ্যেই খুঁজে পেতে চাইছি আনন্দ; সেই সময় দাঁড়িয়েও “নাট্যম কলা মন্দির” দেখিয়ে দিল সুস্থ সংস্কৃতিকে আঁকড়ে থেকেও দর্শকদের আনন্দ দেওয়া যায়। নাট্যম কলা মন্দিরের কর্ণধার জিৎ ঘোষের তত্ত্বাবধানে চন্ডীতলার বিদ্যাসাগর কমিউনিটি প্রেক্ষাগৃহে হয়ে গেল এমনই এক সুন্দর মনোজ্ঞ নৃত্যানুষ্ঠান।

তাদের তৃতীয় বর্ষের এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরু মোনালিসা ঘোষ, যাঁর তত্ত্বাবধানে জিৎ এই বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সারলেন তাঁর ইউরোপ সফরটি, সেই সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চন্ডীতলা ২নং ব্লকের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক কৃষ্ণচন্দ্র মুণ্ডা ও ডি. এস.পি অয়ন সাঁধুখা। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে শুরু অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ হয়েছিল। তারপর অতিথিদের সংক্ষিপ্ত ভাষণের পরেই মূল অনুষ্ঠানে প্রবেশ।
জিৎ মূলত ওডিসি নৃত্যধারার শিল্পী। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল গণেশ বন্দনা, সরস্বতী বন্দনা,মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র, নাগেন্দ্র হরায়, বসন্ত পল্লবী সাবেরি পল্লবী ইত্যাদি বেশ কিছু ওডিসি নিবেদন। পরবর্তীতে রবীন্দ্র-নজরুল নৃত্য,লোকনৃত্য,সেমি ক্লাসিক্যাল এবং অন্যান্য লাইট মিউজিকের সঙ্গে নৃত্যে অত্যন্ত দক্ষতার স্বাক্ষর রাখে সংস্থার ছাত্রীরা।
মধ্য পর্বে ছিল এক হৃদয়স্পর্শী অনুষ্ঠান– গুরুপূজা। গুরু পূর্ণিমার দিন শিষ্য যেভাবে গুরুকে পুজো করেন, ঠিক সেভাবেই গুরু মোনালিসা ঘোষকে সিংহাসনে বসিয়ে তাঁকে পুজো করেন তাঁর সুযোগ্য শিষ্য জিৎ। আর একবার প্রমাণিত হয়,গুরু শিষ্যের কাছে ভগবান স্বরূপ।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় পাওনা ছিল স্বয়ং জিতের নৃত্য পরিবেশনা। জিতের নিবেদনে ছিল “রাগশ্রী পল্লবী”– রাগ পল্লবী,তাল – একতাল, কোরিওগ্রাফ- পদ্মশ্রী গুরু গঙ্গাধর প্রধান। অনায়াস দক্ষতা সমৃদ্ধ তাঁর এই নিবেদন দর্শক অনেকদিন মনে রাখবেন।
প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল নাট্যমকলা মন্দিরের প্রায় একশো জন ছাত্রী। সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে কথায় কথায় গেঁথে রেখেছিলেন বাচিকশিল্পী শম্পা দত্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here