ফ্লপ হিরো থেকে বলিউডে সাফল্যের চূড়ায় অক্ষয়ের সাফল্যের রহস্য

By Ramiz Ali Ahmed:

ডিসিপ্লিন,ডেডিকেশন ও ডিটারমিশন থাকলে একজন মানুষের সাফল্য আসবেই।বলিউডে সাম্প্রতিক বড় উদাহরণ অক্ষয় কুমার।১৪টি ছবি পরপর ফ্লপ করলেও বলিউড থেকে হারিয়ে যাননি।তার অন্যতম কারণ তিনি প্রোডিউসর’র্স অ্যাকটর।
ছবি ফ্লপ করলেও প্রযোজকরা ভাবতেন অক্ষয় ঠিক সময়ে সেটে আসে।কাজটা গুরুত্ব সহকারে করে,ওকেই নিয়ে নিই।
তাঁর অভিনয় এতটাই দুর্বল ছিল প্রথমে কেউ ভাবতেই পারেনি এই অক্ষয় ইন্ডাস্ট্রিতে ২৯টা বছর কাটিয়ে ফেলবেন।শুধু তাই নয় এই অভিনেতাই হয়ে উঠবেন বলিউডের অন্যতম সফল নায়ক।এমনকি সেরা অভিনেতা হিসেবে পাবেন জাতীয় পুরস্কার।

অক্ষয় কুমারের বলিউড ডেবিউ ঘটেছিল ১৯৯১ সালে ‘সওগন্ধ’ ছবি দিয়ে।তাঁর বিপরীতে ছিলেন শান্তিপ্রিয়া।একই বছরে তিনি কিশোর ব্যস পরিচালিত ‘ড্যান্সার’ ছবিতে পরের বছর ‘খিলাড়ী’ সহ বেশ কয়েকটি অ্যাকশন ধর্মী ছবির অ্যাকশন দর্শকের নজর কাড়লেও অভিনয় নিয়ে প্রচন্ড সমালোচিত হয়েছিলেন।অথচ এখন তাঁর ছবি মানেই বক্স অফিসে ব্যবসা ১০০ কোটির উপরে নিশ্চিত।পঞ্চাশোর্ধ প্রথম সারির নায়কদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি ছবিতে কাজ করেন।প্রতি বছরেই তিন চারটি ছবি থেকেই।যেখানে ‘খান’রা হয়তো বছরে একটা বা দুটো।’জিরো’র পর শাহরুখ -এর কোনও ছবিই মুক্তি পায়নি।আরেকটি ব্যাপার তিন খানের সময়টাও খুব একটা ভালো যাচ্ছে না।শাহরুখ খানের ফ্লপ শুরু হয়েছিল ‘ফ্যান’ থেকে।মধ্যিখানে অবশ্য ‘রইস’-আসে,যেটা মোটামুটি সফল হয়েছিল।তারপর আসে ‘জব হ্যারি মেট সেজাল’ এবং ‘জিরো’ পরপর দুটোই ফ্লপ।সত্যি কথা বলতে ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’-এর পর শাহরুখের কোনও ছবি হিট করেনি।সল্লু ভাইয়েরও ‘রেস ৩’ থেকে শুরু হয়েছে ফ্লপের পালা।পারফেকশনিস্ট আমির খানেরও শেষ ছবি ‘ঠগস অফ হিন্দোস্থান’ ফ্লপ করে।সেই জায়গাতে অক্ষয়ের পারফরম্যান্স নজরকাড়া।বড় বাজেটের ছবি থেকে মধ্যমানের ছবি সবেতেই তিনি সফল।’রুস্তম’-এ অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন।কিং খান যেখানে এখনও নিজের ইমেজ ছেড়ে বেরোতে পারছেন না।যার ফলে এরকম একটা সুপারস্টারের পর পর ফ্লপের পর ফ্লপ।অক্ষয় কিন্তু অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিলেন কেরিয়ারকে লম্বা করতে হলে স্টিরিয়োটাইপড হলে চলবে না।নিজের বয়সের কথা ভুলে না গিয়ে,ইমেজ পরিবর্তন করেছেন।ফলে বেরিয়ে আসেন ‘খিলাড়ী’ ইমেজ থেকে।২০০০ সাল থেকে অন্যধারার ছবিতে কাজ শুরু করেন।কমেডিতে জমিয়ে কাজ করতে থাকেন।হয়ে ওঠেন গোবিন্দর বিকল্প।’হেরাফেরি’,’গরম মশালা’,’ফির হেরা ফেরি’,’মুঝসে সাদী করোগি’,’ওয়েলকাম’,’সিং ইজ কিং’,’ভাগম ভাগ’,’হে বেবি’,’নমস্তে লন্ডন’,’চাঁদনী চক টু চায়না’,’জলি এল এল বি ২’,’হাউসফুল’,’অ্যাকশন রিপ্লাই’,’তিস মার খান’,’দেশি বয়েজ’,’হাউসফুল ২’,’হাউসফুল ৩’।
অন্যদিকে আবার যুদ্ধকবলিত কুয়েতে আটকে পড়া অসংখ্য ভারতীয়কে উদ্ধার করা মাতেনি ম্যাজেইউজের চরিত্র অবলম্বনে ‘এয়ারলিপ্ট’,’রুস্তম’ ছবিতে নোভাল অফিসারের চরিত্রে অক্ষয়ের অভিনয় উচ্চ প্রশংসিত হয়।প্রশংসিত হয়েছে ‘প্যাডম্যান’,’টয়লেট:এক প্রেম কথা’র মতো সামাজিক বার্তাবাহক ছবিতে তাঁর অভিনয়।’মিশন মঙ্গল’,’কেশরী’ এর নামও উল্লেখ করার মতো।
এহেন অতি সফল অভিনেতা এখনও অতি ডিসিপ্লিনড।প্রতিদিন ভোর ৪টেয় উঠে পড়েন।৪টে থেকে ৫টা পর্যন্ত একাগ্র চিত্তে থাকেন।৫টার পর থেকে দৈনন্দিন কাজ শুরু করেন।সাঁতার কাটেন।নিজেকে তৈরি করতে সময় নেন ২ঘন্টা।প্রতিদিন ৮ ঘন্টা জমিয়ে কাজ করেন।৮ঘন্টায় মুহূর্তের জন্যও ভ্যানিটি ভ্যানে গিয়ে সময় কাটান না।প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ৯.৩০ এর মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন।
অক্ষয়ের জন্ম ১৯৬৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পাঞ্জাবের অমৃতসরে।আসল নাম রাজিব হরি ওম ভাটিয়া।অক্ষয় কুমারের জন্ম পাঞ্জাবের অমৃতসরে৷ বাবা সামরিক বাহিনীতে ছিলেন।মায়ের নাম আরুনা ভাটিয়া।তিনি নাচিয়ে হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন। মুম্বাইয়ে স্থানান্তর হওয়ার পূর্বে তিনি দিল্লির চাঁদনি চকে থাকতেন। মুম্বাইয়ে তিনি কলিওারাতে থাকতেন, সেখানকার অধিকাংশ মানুষ ছিলো পাঞ্জাবী। তিনি মুম্বাইয়ের ডন বসকো স্কুলে পড়েন এবং পরে তিনি মুম্বাইয়ের গুরু নানক খালসা কলেজে পড়াশোনা করেন।অক্ষয় কুমারের বোনের নাম আল্কা ভাটিইয়া।তায়কোয়ান্দোতে ব্লাক বেল্ট পাওয়ার পর তিনি আরো মার্শাল আর্ট শেখার জন্য ব্যাংককে যান। পরে থাইল্যান্ডে তিনি মুই থাই শেখার পর ওয়েটারের কাজ করতে শুরু করেন, তিনি কিছুদিন বাংলাদেশেও কাজ করেছিলেন । যখন তিনি মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন, তখন তিনি মার্শাল আর্ট শেখানো শুরু করেন। তার এক ছাত্র, ফটোগ্রাফার,তাঁকে মডেলিং করার জন্য পরামর্শ দেয়, যা তার চলচ্চিত্রে অভিষেকের প্রথম সোপানটি তৈরি হয়ে যায়।২০০১ সালে বিয়ে করেন রাজেশ খান্না ও ডিম্পল কাপাডিয়ার বড় মেয়ে টুইঙ্কেল খান্নাকে।দুই সন্তান আরভ কুমার ও নিতারা কুমারকে নিয়ে সুখী পরিবার অক্ষয়ের।শুটিংয়ের সময় বাদে কোয়ালিটি সময় দেন পরিবারকে।২০০৯ সালে পেয়েছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার,২০০১ সালে ‘আজনবী’ ও ২০০৫ সালে ‘গরম মসলা’ দুটি ছবির জন্য পেয়েছেন ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। ফ্লপ হিরো থেকে বলিউডের সবচেয়ে সফল ধারাবাহিক অক্ষয় নতুনদের আদর্শ হওয়া উচিত।

বড় উদাহরণ অক্ষয় কুমার।১৪টি ছবি পরপর ফ্লপ করলেও বলিউড থেকে হারিয়ে যাননি।তার অন্যতম কারণ তিনি প্রোডিউসর’র্স অ্যাকটর।ছবি ফ্লপ করলেও প্রযোজকরা ভাবতেন অক্ষয় ঠিক সময়ে সেটে আসে।কাজটা গুরুত্ব সহকারে করে,ওকেই নিয়ে নিই।তাঁর অভিনয় এতটাই দুর্বল ছিল প্রথমে কেউ ভাবতেই পারেনি এই অক্ষয় ইন্ডাস্ট্রিতে ২৯টা বছর কাটিয়ে ফেলবেন।শুধু তাই নয় এই অভিনেতাই হয়ে উঠবেন বলিউডের অন্যতম সফল নায়ক।এমনকি সেরা অভিনেতা হিসেবে পাবেন জাতীয় পুরস্কার।অক্ষয় কুমারের বলিউড ডেবিউ ঘটেছিল ১৯৯১ সালে ‘সওগন্ধ’ ছবি দিয়ে।তাঁর বিপরীতে ছিলেন শান্তিপ্রিয়া।একই বছরে তিনি কিশোর ব্যস পরিচালিত ‘ড্যান্সার’ ছবিতে পরের বছর ‘খিলাড়ী’ সহ বেশ কয়েকটি অ্যাকশন ধর্মী ছবির অ্যাকশন দর্শকের নজর কাড়লেও অভিনয় নিয়ে প্রচন্ড সমালোচিত হয়েছিলেন।অথচ এখন তাঁর ছবি মানেই বক্স অফিসে ব্যবসা ১০০ কোটির উপরে নিশ্চিত।পঞ্চাশোর্ধ প্রথম সারির নায়কদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি ছবিতে কাজ করেন।প্রতি বছরেই তিন চারটি ছবি থেকেই।যেখানে ‘খান’রা হয়তো বছরে একটা বা দুটো।’জিরো’র পর শাহরুখ -এর কোনও ছবিই মুক্তি পায়নি।আরেকটি ব্যাপার তিন খানের সময়টাও খুব একটা ভালো যাচ্ছে না।শাহরুখ খানের ফ্লপ শুরু হয়েছিল ‘ফ্যান’ থেকে।মধ্যিখানে অবশ্য ‘রইস’-আসে,যেটা মোটামুটি সফল হয়েছিল।তারপর আসে ‘জব হ্যারি মেট সেজাল’ এবং ‘জিরো’ পরপর দুটোই ফ্লপ।সত্যি কথা বলতে ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’-এর পর শাহরুখের কোনও ছবি হিট করেনি।সল্লু ভাইয়েরও ‘রেস ৩’ থেকে শুরু হয়েছে ফ্লপের পালা।পারফেকশনিস্ট আমির খানেরও শেষ ছবি ‘ঠগস অফ হিন্দোস্থান’ ফ্লপ করে।সেই জায়গাতে অক্ষয়ের পারফরম্যান্স নজরকাড়া।বড় বাজেটের ছবি থেকে মধ্যমানের ছবি সবেতেই তিনি সফল।’রুস্তম’-এ অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন।কিং খান যেখানে এখনও নিজের ইমেজ ছেড়ে বেরোতে পারছেন না।যার ফলে এরকম একটা সুপারস্টারের পর পর ফ্লপের পর ফ্লপ।অক্ষয় কিন্তু অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিলেন কেরিয়ারকে লম্বা করতে হলে স্টিরিয়োটাইপড হলে চলবে না।নিজের বয়সের কথা ভুলে না গিয়ে,ইমেজ পরিবর্তন করেছেন।ফলে বেরিয়ে আসেন ‘খিলাড়ী’ ইমেজ থেকে।২০০০ সাল থেকে অন্যধারার ছবিতে কাজ শুরু করেন।কমেডিতে জমিয়ে কাজ করতে থাকেন।হয়ে ওঠেন গোবিন্দর বিকল্প।’হেরাফেরি’,’গরম মশালা’,’ফির হেরা ফেরি’,’মুঝসে সাদী করোগি’,’ওয়েলকাম’,’সিং ইজ কিং’,’ভাগম ভাগ’,’হে বেবি’,’নমস্তে লন্ডন’,’চাঁদনী চক টু চায়না’,’জলি এল এল বি ২’,’হাউসফুল’,’অ্যাকশন রিপ্লাই’,’তিস মার খান’,’দেশি বয়েজ’,’হাউসফুল ২’,’হাউসফুল ৩’।অন্যদিকে আবার যুদ্ধকবলিত কুয়েতে আটকে পড়া অসংখ্য ভারতীয়কে উদ্ধার করা মাতেনি ম্যাজেইউজের চরিত্র অবলম্বনে ‘এয়ারলিপ্ট’,’রুস্তম’ ছবিতে নোভাল অফিসারের চরিত্রে অক্ষয়ের অভিনয় উচ্চ প্রশংসিত হয়।প্রশংসিত হয়েছে ‘প্যাডম্যান’,’টয়লেট:এক প্রেম কথা’র মতো সামাজিক বার্তাবাহক ছবিতে তাঁর অভিনয়।’মিশন মঙ্গল’,’কেশরী’ এর নামও উল্লেখ করার মতো।এহেন অতি সফল অভিনেতা এখনও অতি ডিসিপ্লিনড।প্রতিদিন ভোর ৪টেয় উঠে পড়েন।৪টে থেকে ৫টা পর্যন্ত একাগ্র চিত্তে থাকেন।৫টার পর থেকে দৈনন্দিন কাজ শুরু করেন।সাঁতার কাটেন।নিজেকে তৈরি করতে সময় নেন ২ঘন্টা।প্রতিদিন ৮ ঘন্টা জমিয়ে কাজ করেন।৮ঘন্টায় মুহূর্তের জন্যও ভ্যানিটি ভ্যানে গিয়ে সময় কাটান না।প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ৯.৩০ এর মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন।অক্ষয়ের জন্ম ১৯৬৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পাঞ্জাবের অমৃতসরে।আসল নাম রাজিব হরি ওম ভাটিয়া।অক্ষয় কুমারের জন্ম পাঞ্জাবের অমৃতসরে৷ বাবা সামরিক বাহিনীতে ছিলেন।মায়ের নাম আরুনা ভাটিয়া।তিনি নাচিয়ে হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন। মুম্বাইয়ে স্থানান্তর হওয়ার পূর্বে তিনি দিল্লির চাঁদনি চকে থাকতেন। মুম্বাইয়ে তিনি কলিওারাতে থাকতেন, সেখানকার অধিকাংশ মানুষ ছিলো পাঞ্জাবী। তিনি মুম্বাইয়ের ডন বসকো স্কুলে পড়েন এবং পরে তিনি মুম্বাইয়ের গুরু নানক খালসা কলেজে পড়াশোনা করেন।অক্ষয় কুমারের বোনের নাম আল্কা ভাটিইয়া।তায়কোয়ান্দোতে ব্লাক বেল্ট পাওয়ার পর তিনি আরো মার্শাল আর্ট শেখার জন্য ব্যাংককে যান। পরে থাইল্যান্ডে তিনি মুই থাই শেখার পর ওয়েটারের কাজ করতে শুরু করেন, তিনি কিছুদিন বাংলাদেশেও কাজ করেছিলেন । যখন তিনি মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন, তখন তিনি মার্শাল আর্ট শেখানো শুরু করেন। তার এক ছাত্র, ফটোগ্রাফার,তাঁকে মডেলিং করার জন্য পরামর্শ দেয়, যা তার চলচ্চিত্রে অভিষেকের প্রথম সোপানটি তৈরি হয়ে যায়।২০০১ সালে বিয়ে করেন রাজেশ খান্না ও ডিম্পল কাপাডিয়ার বড় মেয়ে টুইঙ্কেল খান্নাকে।দুই সন্তান আরভ কুমার ও নিতারা কুমারকে নিয়ে সুখী পরিবার অক্ষয়ের।শুটিংয়ের সময় বাদে কোয়ালিটি সময় দেন পরিবারকে।২০০৯ সালে পেয়েছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার,২০০১ সালে ‘আজনবী’ ও ২০০৫ সালে ‘গরম মসলা’ দুটি ছবির জন্য পেয়েছেন ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। ফ্লপ হিরো থেকে বলিউডের সবচেয়ে সফল ধারাবাহিক অক্ষয় নতুনদের আদর্শ হওয়া উচিত।

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *