জীবন গঠনের পথে আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী বিষয় নির্বাচনের প্রয়োজন


✍️অভিনন্দন গোস্বামী
ছাত্রজীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা যেমন মাধ্যমিক, ঠিক তেমনি জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে প্রথম বড় পরীক্ষা উচ্চমাধ্যমিক। এই পরীক্ষার পরই সিদ্ধান্ত নিতে হয় সঠিক শাখা, সঠিক বিষয়, যা আগামীর রূপরেখা তৈরি করে দেয়। উচ্চমাধ্যমিকের পর কোন পথে? যে শাখা তে পড়াশোনা করছিলাম তাতেই থাকবো? না পরিবর্তন করবো? নিজের ইচ্ছা, ভালোলাগা কে গুরুত্ব দেবো, না কি অন্যসকলের পরামর্শ শিরোধার্য করে স্রোতে গা ভাসাবো? এমন ই এক অনিশ্চয়তা ভরা সময়ে ছাত্র ছাত্রী দের কে সঠিক পথের দিশা দেখাতে অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করলো বীরভূমের দুই বিদ্যালয় – তাঁতিপাড়া নবকিশোর বিদ্যানিকেতন ও গিরিজোড় সাঁওতাল উচ্চবিদ্যালয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজন করেছিল।
” উচ্চমাধ্যমিকের পর কোন পথে???” শীর্ষক আলোচনা সভা এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিউড়ি শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠের ইংরাজীর শিক্ষক ও টাইমস অব ইন্ডিয়া’র বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্রী সোমেশ্বর বড়াল ।বক্তব্যের প্রথমেই শিক্ষার দুটি লক্ষ্যের কথা বলেন- প্রাথমিক লক্ষ্য ও চূড়ান্ত লক্ষ্য। ছাত্র ছাত্রী দের জন্য লক্ষ্য হওয়া উচিত সৎ ভাবে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং কর্মের মধ্য দিয়ে সমাজের জন্য কিছু করা। ছাত্র ছাত্রী দের আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী বিষয় নির্বাচনের প্রয়োজন এবং পরীক্ষায় নম্বর বেশী পাওয়া যায় এমন মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিষয় নির্বাচন সঠিক নয় ।সময়ের সঙ্গে চাহিদা রেখে বিষয় নির্বাচনের হওয়া উচিত এবং সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম, হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রভৃতি বিষয় গুলি বর্তমানে খুব গুরুত্বপূর্ণ । তবে বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত কিনা সে বিষয়ে খবরাখবর নেওয়ার ব্যাপারেও ছাত্র ছাত্রী দের অবহিত হতে হবে। ক্রিয়েটিভ বিষয় যেমন ফাইন আর্টস, বি মিউজ, হিস্ট্রি অব আটর্স প্রভৃতি বিষয় গুলির গুরুত্ব আজকের দিনে যথেষ্ট পরিমাণে আছে। ছাত্রদের এটা মনে রাখতে হবে সব বিষয়েরই দাম আছে, শুধু একটা সার্টিফিকেট নয় ছাত্র ছাত্রী দের বিষয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রয়োজন এবং বিষয়টিকে আত্মস্থ করে তার সঠিক প্রয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে হবে। কোন বিষয জোর করে ছাত্রদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বাবা-মায়েদের না পাওয়া অপ্রাপ্ত প্রাপ্তি পাওয়ার আশায় ছেলে মেয়ের কাছে প্রত্যাশা করতে গিয়ে জোরপূর্বক অনেক বাবা-মা তার ছেলেমেয়েদের ওপর জোর খাটান,যার ফল কিন্তু সব ক্ষেত্রে ভালো হয়না।বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছাত্রী দের জন্য অন্যতম আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন টি সি এস’ র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট, বীরভূমের ভূমিপুত্র শ্রী তনুশ্যাম চট্টোপাধ্যায়। বলেন, ভালো স্টুডেন্ট মানেই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ছাত্র ছাত্রী দের সাবলীলতা ও শিক্ষক মহাশয়দের পরামর্শ মেনেই বিষয় নির্বাচনের ওপর জোর দেওয়া। নিজের প্রস্তুতি ও ভালোলাগা, পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ও ভবিষ্যত লক্ষ্য এই মাপকাঠি গুলির জোর দিয়ে বিষয় নির্বাচনের প্রয়োজন। প্রফেশনাল ও টেকনিক্যাল শাখার বিষয় যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি,এগ্রিকালচার,এরোন্যাটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং,মাইনিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া যেতে পারে। প্রথাগত বিষয়ের বাইরে জিওলজি বিষয়টিরও চাকরির বাজারে চাহিদা আছে। লক্ষ্যে স্থির থাকলে সৎ ভাবে চেষ্টা করলে কোনো লক্ষ্যই কঠিন নয়।তাঁতিপাড়া নবকিশোর বিদ্যানিকেতন প্রধান শিক্ষক সুবীর ঘোষ জানান যুগোপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বিশেষভাবে প্রয়োজন।
গিরিজোড় সাঁওতাল উচচবিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক শুভঙ্কর দত্ত জানান ক্লাসের ফার্স্ট বয় বা কোন প্রিয় বন্ধু নয় তুমি ঠিক যেরকম, তোমার কোনটা সঠিক সেটাই বেছে নাওয়া উচিত।
বাবা-মায়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা যেমন ছাত্রের জীবন গঠনে কাজে লাগবে তার পাশাপাশি বর্তমান দিনের ছাত্রদের কাছে মোবাইল এবং নেটের দৌলতে বহু ভালো ইনফরমেশন ও তাদের কাছে আছে সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি বয়সের ভারে বাবা মায়ের কাছেও যে অভিজ্ঞতাটি আছে, সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ ।সুতরাং দুটি বিষয়ের যদি মেলবন্ধন করা যায় তবে একটি ছাত্রকে সম্পূর্ণ মানুষরূপে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *