একটি নৃত্যানুষ্ঠান

মহুয়া বেগম

অঙ্কন চিত্র: মনীষা গায়েন (বাবি)


প্রিয় বান্ধবী পল্লবী সেদিন ফোন করে ফিরোজাকে জিজ্ঞেস করে – কেমন আছিস ফিরোজা?

  • একটু ভালো আছি পল্লবী।টিভিতে একটি নৃত্যানুষ্ঠান দেখে আগের থেকে একটু ভালো আছি।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চণ্ডালিকা’ নৃত্যনাট্য।
  • ভালো থাকবি ফিরোজা এটাই চাই।মাঝে মাঝে একটু টিভি দেখিস।কত ভালো অনুষ্ঠান তো হয়।
  • হ্যাঁ সে তো জানি।কিন্তু কিছুই ভালো লাগেনারে পল্লবী।আজ ফোন রাখি পল্লবী আবার পরে কথা বলব।
    -ঠিক আছে ফিরোজা।নানা হতাশার কারণে অবসাদ আসতে পারে।এখন লাকডাউন তো ডাক্তার পাবি না।টিভির অনুষ্ঠান দেখে ভালো থাকিস।

পল্লবী জানে ফিরোজার কথা।প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েটি অনেক কষ্ট সয়ে লেখাপড়া শিখে কয়েকটা চাকরির ট্রেনিং নিয়ে অনেক চেষ্টার পর একটা চাকরি পেয়ে ভাইবোনদের লেখাপড়ার খরচ,গান ও নাচ শেখার খরচ জুগিয়েছে।তারপর বিয়ে হয়েছে কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ পরিবারের সরল এক মানুষের সাথে।দীর্ঘ বাস জার্নি করে চাকরি করতে হয়েছে।তার একমাত্র সন্তান ছোটো থেকেই ভোগে।নিজে সময় দিতে পারেনি সন্তানকে।কয়েকটি অপারেশনের পরেও ছেলেটি ভোগে।তাই কলকাতায় ডাক্তার দেখানোর প্রয়োজনে কলকাতায় একটি ফ্ল্যাট খোঁজে।প্রমোটারকে টাকাও জমা দেয়,কিন্তু প্রমোটার ফ্ল্যাটও দেয়নি, টাকাও ফেরৎ দেয়নি।প্রায় দশ বছর পার হয়ে গেছে।তাই ফিরোজা অবসাদে অসুস্থ।কোনো কিছুই তার ভালো লাগেনা,তাই টিভিও দেখেনা।পল্লবী প্রায়ই ফোন করে টিভি দেখতে বলে।আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চণ্ডালিকা’ নৃত্যানুষ্ঠান দেখে ভালো আছে।

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *