উত্তম রসায়ন

✍️ প্রিয়রঞ্জন কাঁড়ার

“The star is a reflection in which the public studies and adjusts it’s own image of itself… The social history of a nation can be written in terms of its film star.” (From ‘Films and Feelings’ by Raymond Dwrgant)
ঠিক এভাবেই বাঙালির চিরন্তন আত্ম-জিজ্ঞাসা এবং উত্তমের স্টারডমের সমাপতন ঘটেছে। বাঙালির চেতনার গভীরে স্টারডমের একমাত্র পার্সোনিফিকেশন উত্তমকুমার। তাই সত্যজিতের নায়কও উত্তমই।
১৯৪৭-১৯৮০ এই ৩৩ বছরের জার্নির প্রথম সাতটা বছর শুধুই পাহাড়-প্রমাণ ব্যর্থতার ভগ্নস্তূপ। ‘অগ্নিপরীক্ষা’ ছবিটি থেকেই এক অন্য রূপকথার শুরু। আর সেই রূপকথার প্রতিটি পরতে উত্তম-ডিকশনের গাঢ় ছাপ।

পণ্য-সংস্কৃতির সুনির্দিষ্ট ফর্মুলায় শিল্প-বাস্তব ও স্বপ্ন-বাস্তবের মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য রক্ষা। বাংলা সিনেমার অসংগঠিত ক্ষেত্রে কোনওরকম সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বোপার্জিত গনগনে সাফল্য।
অগ্রদূতের বিভূতি লাহা যখন ‘অগ্নি পরীক্ষা’ ছবির জন্য উত্তম-সুচিত্রাকে কাস্ট করেন, ইন্ডাস্ট্রির লোকজন হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। পূর্ব-বঙ্গীয় উচ্চারণ ও ঘনঘন সংলাপ ভুলে যাওয়ার কারণে সুচিত্রাকে তখন ‘মাকাল ফল’ বলা হতো। অন্যদিকে বক্স অফিসের পাটীগণিত উত্তমকে ‘ফ্লপ মাস্টার’ শিরোপা দিয়েছিল।

সেই জায়গা থেকে ১৯৫৪ সালে বাংলা বাণিজ্যিক ছবির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন ওই দু’জন। অতুলনীয় স্ক্রিন-পার্সোনালিটি, ভুবন ভোলানো হাসি আর মধ্যবিত্ত বাঙালির সুখ-দুঃখের অনুভূতি, বিশ্বাস ও মূল্যবোধগুলোর সঙ্গে একাত্মতা। এই তিন অস্ত্রেই বাঙালিকে ঘায়েল করেছেন উত্তম কুমার। আবার এর কুফলও ভোগ করেছে বাংলা সিনেমা। শুধুমাত্র উত্তম বা সুচিত্রার নামে বাণিজ্য-বৈতরণি পার হওয়া যায়, এই বিশ্বাস থেকেই বহু দুর্বল পরিচালনা ও দুর্বল চিত্রনাট্য সমালোচনার আওতায় আসেনি। তাতে সিনেমার গুণগত ক্ষতির পারদ চড়েছে ক্রমাগত।
আজ মহানায়কের প্রয়াণ-বার্ষিকীতে সশ্রদ্ধ প্রণাম ও ভালোবাসা।

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *