হাতে কলমে ভৌত বিজ্ঞানের মজার ক্লাস – অনুসন্ধান-এর উদ্যোগে দারুন খুশি ছাত্র-ছাত্রীরা

0
39



১১ জুলাই ২০২১ :হাতে কলমে ভৌত বিজ্ঞানের পড়াশোনা যে কত মজাদার হতে পারে, তা ছাত্র-ছাত্রীদের ধারনার বাইরে ছিল। আজ অনুসন্ধানের উদ্যোগে পড়াশোনা যে আসলেই মজার, তা অনলাইনে করে দেখালেন অভিজ্ঞ শিক্ষকের সঙ্গে এক ঝাঁক উদ্যমী শিক্ষক-গবেষক।
অতি মারির কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা যখন স্কুলে যেতে পারছেনা, বন্ধুদের সাথে করতে পারছে না মজা। সে সময়ে পড়াশোনাকে আনন্দময় করে তুলতে দীর্ঘদিন ধরে ভাবছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। স্থির হয়, অনুসন্ধানের পক্ষ থেকে প্রতি রবিবার সকালে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে তাদের পাঠ্যসূচির মধ্যে থেকে পড়াশোনাকে কিভাবে মজাদার করে তোলা যায় তা নিয়ে বিশেষ ধরনের ক্লাস বা কর্মশালার আয়োজন করা হবে। সেই কর্মসূচির আজ ছিল তৃতীয় সপ্তাহ।
আজকের বিষয় ছিল ভৌতবিজ্ঞান। এ দিনের সূচনায় সুদূর জার্মানির বার্লিন শহর থেকে যোগ দিয়েছিলেন বিশিষ্ট গবেষিকা অদ্রিজা চৌধুরী। সেখানে ন্যানো-ইলেকট্রনিক্স নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন ফ্রনহফার ইনস্টিটিউট এন্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বাংলায় কথোপকথন করতে পেরে অত্যন্ত আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, একদম ছোটবেলায় যে যেমনই থাকুক না কেন, যখন সে বুঝতে শুরু করে, তখনই যদি নিষ্ঠার সঙ্গে ভালো শিক্ষকদের সহযোগিতায় এগোতে পারে, তাহলে উঢঢতর পড়াশুনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াও দুষ্কর কিছু নয়। তিনি নিজেকে এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ বলে ছাত্র-ছাত্রীদের মনোবল বৃদ্ধি করেন।ফিজিক্স নিয়ে তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু সহজ করে তিনি তুলে ধরেন।
এরপর পাঠ্যসূচি অনুযায়ী অধ্যায়ভিত্তিক পাঠ-পর্ব শুরু হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী স্থির হয় প্রথমে হবে রসায়ন। পরমাণুর গঠন নিয়ে চিত্তাকর্ষক একটি ক্লাসের উপহার দেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনিসুর আলি জমাদার। রসায়নের ভিত মজবুত করতে রহস্য ঠিক কোথায় লুকিয়ে থাকে তা তিনি প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন তরুণ গবেষক নাজিরুল হক। আজকের দিনে পেট্রোলের মূল্য যখন মহার্ঘ হয়ে পড়েছে, তখন গ্রীন হাউজ গ্যাস থেকে জ্বালানি প্রস্তুত করে সেই সংকটের মোকাবিলা করার উপায় খোঁজেন তিনি। ছাত্র-ছাত্রীরা বেশ বুঝতে পারে রসায়নের ব্যবহার দৈনন্দিন জীবনে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এরপর বস্তু ও তরলের সাধারণ ধর্ম নিয়ে ছোট ছোট পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আলোচনা করেন বরিষ্ঠ পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক তথা সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড.দেবব্রত মুখোপাধ্যায়। একেবারে ফেলে দেওয়া জিনিস নিয়ে হাতে কলমে এক্সপেরিমেন্ট করে দেখান তিনি। এক বাটি জল নিয়ে তিনি দেখান, ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে কি করে তার আচরণ পাল্টে যায় এবং বিজ্ঞানীদের তীক্ষ্ণ অনুসন্ধানে কিভাবে তা ধরা পড়ে। অনলাইনে ছোট পর্দার সামনে ছাত্র-ছাত্রীরাও যেন বিজ্ঞানীদের চোখে তা দেখতে শুরু করে। ভর্তি জলের বাটিতে একটা-একটা করে সুঁচ পেলে দেখান তিনি, কোনও জল অপসারিত হচ্ছে না। কিন্তু ওই সুঁচগুলো একত্রিত করে একই জলে ফেলা হলে সুঁচ তার সমপরিমাণ জল বাটি থেকে অপসারণ করে। প্রথমে তা আণবিক তত্ত্ব মেনে চলে এবং পরবর্তীতে তা মেনে নেয় আর্কিমিডিসের তত্ত্ব। সহজভাবে এই ব্যাখ্যা উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের এক ভিন্ন অনুসন্ধিৎসু মন গড়ে দেয় এদিনের কর্মশালা।
এদিনের শেষ বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী মতিয়ার রহমান খান। অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজকের কর্মশালা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নিশ্চিত ভাবে এক নয়া দৃষ্টিশক্তির উন্মেষ ঘটাবে। সমস্ত শিক্ষক মহাশয়দেরকে তিনি দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে পড়াশুনার এই মেলবন্ধন ঘটানোর পদ্ধতিকে স্বাগত জানান এবং এ’ এক নয়া জমানার ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেন।
এদিন কর্মশালার সামগ্রিক পরিচালনায় ছিলেন গণিতের শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরখেল, নায়ীমুল হক, সাহাবুল ইসলাম গাজী এবং আখের সর্দার । আগামী রবিবার ইংরেজি বিষয় নিয়ে এক আকর্ষণীয় এবং আগামী দিনের জন্য অত্যন্ত জরুরী এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এই কর্মশালায় অংশ নিতে স্বাগত জানানো হয় ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here