google-site-verification=3aWTtnJLDmziNXnTRHYjTuuhcCjdWHLf0r3nb02M4_Q সম্পর্কের নাটক 'উড়োমেঘ' google-site-verification=3aWTtnJLDmziNXnTRHYjTuuhcCjdWHLf0r3nb02M4_Q
Anando Sangbad Live

সম্পর্কের নাটক ‘উড়োমেঘ’

By Ramiz Ali Ahmed

‘সন্দেহ’- ছোট একটি শব্দ। কিন্তু তার ক্ষমতা অনেক। কেড়ে নিতে পারে জীবনের মূল্যবান সময়গুলো। বাঁধিয়ে দিতে পারে একে অপরের মধ্যে কলহ। পরিবারকে নিয়ে যেতে পারে ধ্বংসের কিনারে। ধাবিত করতে পারে মৃত্যুর দিকে। নানা অঘটনের ঘটক হলো সন্দেহ।

দাম্পত্য জীবন সুখময় হয়ে ওঠে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার উপর নির্ভর করে। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, ভালবাসা ও সহানুভূতি যত গভীর হয়, দুজনের বন্ধনটাও তেমন দৃঢ় হতে থাকে। আর যখনই এই বিশ্বাস ও ভালবাসার বদলে অনুপ্রবেশ ঘটে অবিশ্বাস বা সন্দেহ তখনই দুজনের মধ্যে বাড়তে থাকে দুরত্ব। যার ফলাফল দাম্পত্য কলহ, নির্যাতন এবং অবশেষে পারিবারিক ভাঙন।

সেই আদি যুগ থেকে যে নেতিবাচক আবেগটি এককভাবে সংসারের সুখকে নিঃশেষ করার জন্যে যথেষ্ট তা হলো সন্দেহ। সন্দেহ বিভিন্ন রূপে আমাদের সম্পর্কে অনুপ্রবেশ করে। এটা কারো কারো মধ্যে থাকে স্বাভাবিক পর্যায়ের। আবার কারো মধ্যে প্রকাশ পায় অস্বাভাবিক অসুস্থতা রূপে।

‘সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ’- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘হৈমন্তি’ গল্পের এই লাইনটি আমরা সবাই কমবেশি পড়েছি। কিন্তু আদৌ কী এর তাৎপর্য বোঝার চেষ্টা করেছি? আসলে জীবনসঙ্গীকে সম্পত্তির মতো ভোগ করে নয় বরং সম্পদ হিসেবে যখন একে অপরকে মূল্যায়ন করবে, যত্ন নেবে তখনই এর গভীরতা বাড়বে।

এরকম একটা বিষয়কে নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরলেন নাট্য নির্দেশক জয়দীপ বিশ্বাস। নাটকের নাম ‘উড়োমেঘ’।

‘উড়োমেঘ’ সম্পর্কের নাটক ।যেখানে প্রেম, মেনে নেওয়া ,মানিয়ে নেওয়া, সন্দেহ আর প্রতিহিংসার বাস্তব চিত্র বর্ণিত হয়েছে। পেশায় আইনজীবী শিবশম্ভু তাপাদার একজন নিরীহ শান্তিপ্রিয়
মানুষ। স্ত্রীর সন্দেহ, অশান্তিতে জেরবার। তথাপি শান্তির খোঁজে তিনি বৈকল্য হীন। স্ত্রী মল্লিকা
অশান্তি করে বাড়ি চলে গেছেন। দীর্ঘ বিমূর্ষ রাত কাটার পর তার বাড়িতে আসেন ছুটি সরকার।
ছুটি আর শিবশম্ভুর আলাপচারিতায় উঠে আসে সম্পর্কের বিভিন্ন টানাপোড়েনের কথা। নাটক শেষে যেখানে দুজনেই অনুভব করেন সম্পর্কে বেঁধে থাকার সূত্র। বর্তমান সময়ে সম্পর্কের
বিধিবামে এই প্রয়োজনীয় নাটকের উপস্থাপনা করেছে
উদীচী গোবরডাঙা।

শিবশম্ভুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অতনু পাল। ছুটির চরিত্রে আছেন অর্পিতা পাল । অতনু পাল ও অর্পিতা পাল-এর বেশ মজাদার সংলাপ ও জমাটি অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছেন।অভীক বন্দোপাধ্যায়ের মঞ্চ, গৌতম সরকারের আলো, সুরজিৎ পালের রূপসজ্জা নাটকটির যথাযথভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।সঙ্গীতের দায়িত্ব সামলাছেন নির্দেশক
জয়দীপ বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *