শিক্ষক দিবস ও ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষণ

✍️আনার মোল্লা,প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক

এক জন সফল মানুষের পেছনে শিক্ষকের যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। সেই শিক্ষক যে পড়াশোনার ক্ষেত্রেই হতে হবে, তা নয়। তিনি থাকতে পারেন জীবনের যে কোনও ক্ষেত্রেই। তিনি যে পড়ুয়াকে শেখাবেন , তাই নয়। তিনি তাকে জীবনে চলার পথে পরামর্শ দেবেন, ব্যর্থতায় পাশা দাঁড়িয়ে উৎসাহ দেবেন, সাফল্যের দিনে নতুন লক্ষ্য স্থির করে দেবেন। তিনি তাকে শুধু সফল নয়, একজন ভাল মানুষ হতে শেখাবেন।

সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন।আজ ৫ই সেপ্টেম্বর, ভারতে শিক্ষক দিবসরূপে পালিত হচ্ছে। সকল শিক্ষককে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

একজন আদর্শ শিক্ষক ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন আজকের দিনে তামিলনাডুর তিরুট্টানিতে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি (১৯৫২-১৯৬২) এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি(১৯৬২-৬৭) ছিলেন।সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের দূত ছিলেন, কিন্তু সর্বোপরি তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক এবং দার্শনিক।

একাধারে রাজনীতিবিদ, দার্শনিক ও অধ্যাপক এই শান্ত মানুষটি ছাত্রজীবনে অতি মেধাবী ছিলেন। জীবনে কোন পরীক্ষায় দ্বিতীয় হননি।তিনি সায়েন্স নিয়ে পড়তে খুবি আগ্রহি ছিলেন কিন্তু দারিদ্র্যতার জন্য পড়তে পারেননি। বিভিন্ন বৃত্তির মাধ্যমে তার ছাত্র জীবন এগিয়ে চলে। ১৯০৫ সালে তিনি মাদ্রাজ খ্রিস্টান কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তার বিষয়টি ছিল ‘বেদান্ত দর্শনের বিমূর্ত পূর্বকল্পনা’(The Ethics of the Vedanta and its Metaphysical Presuppositions)।

বিশ্বের দরবারে তিনি অতি জনপ্রিয় দার্শনিক অধ্যাপক হিসাবেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৩১ সালে তাঁকে ব্রিটিশ নাইটহুড-এ সম্মানিত করা হয়। ১৯৫৪তে ভারতরত্ন উপাধি পান।

প্রথম জীবনে তিনি মাইসোর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা করেন (১৯১৮)। এসময় তিনি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য পত্রিকায় লিখতেন। সে সময়েই তিনি লেখেন তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘The Philosophy of Rabindranath Tagore’। দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘The Reign of Religion in Contemporary Philosophy’প্রকাশিত হয় ১৯২০সালে। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও অধ্যাপনা করেন। দেশ–বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বারবার অধ্যাপনার জন্য আমন্ত্রিত হয়েছেন।

ভারতে শিক্ষক দিবসের ইতিহাস:

১৯৬২ সালে ডঃ সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়েছিলেন। শোনা যায়, কয়েকজন ছাত্র, বন্ধুবান্ধব প্রখ্যাত শিক্ষাবিদের জন্মদিন পালন করতে চেয়েছিলেন। সেই সময় রাধাকৃষ্ণণ জানিয়েছিলেন, তাঁর জন্মদিন আলাদাভাবে পালন না করে সেই দিনটি দেশের সব শিক্ষকের জন্য পালন করা হলে তিনি গর্ববোধ করবেন। এই আবেদন শিক্ষকদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও সম্মানকেই প্রকাশ করে। তাই ১৯৬২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ডঃ রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হতে থাকে। তিনি বিশ্বাস করতেন, দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিদেরই শিক্ষক হওয়া উচিত।

রাধাকৃষ্ণন সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য, যা আমাদের জানা দরকার

  • বর্তমান তামিলনাড়ু এবং তৎকালীন মাদ্রাজ প্রদেশের তিরুতান্নিতে এক গরিব ব্রাহ্মণ পরিবারে ১৮৮৮-এর ৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন রাধাকৃষ্ণন। ছেলে পুরোহিত হোক, এমনটাই চাইতেন তাঁর বাবা। বাবা কখনোই চাননি ছেলে ইংরেজি পড়ুক। কিন্তু রাধাকৃষ্ণনের জেদে পরাজিত হন তাঁর বাবা। তিরুপতির একটি স্কুলে তাঁকে ভর্তি করা হয়।মেধাবী ছাত্র হওয়ার ফলে, স্কুলজীবনে অসংখ্য স্কলারশিপ পেয়েছেন রাধাকৃষ্ণন। প্রথমে ভেলোরের ভুরহি কলেজে ভর্তি হলেও, পরে মাদ্রাজ ক্রিশ্চান কলেজে ভর্তি হন তিনি। তাঁর বিষয় ছিল দর্শন। কিন্তু দর্শন তাঁর প্রথম পছন্দের বিষয় ছিল না। বই কেনার টাকা ছিল না রাধাকৃষ্ণনের। কিন্তু সেই সময়েই একই কলেজ থেকে দর্শন নিয়ে স্নাতক হন তাঁর এক দাদা। দাদার বইয়ের জন্যই দর্শনকেই বেছে নেন তিনি।বয়স যখন ২০, বেদান্ত দর্শন ওপর তাঁর গবেষণা প্রকাশিত হয়।
  • ১৯০৮-এ মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন রাধাকৃষ্ণন। এর পরে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি কলেজ দিয়ে তাঁর অধ্যাপনা জীবন শুরু করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয়েও তাঁর অধ্যাপনার স্বাদ পায়। অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের ভূমিকাও পালন করেছেন তিনি।
  • ছাত্রছাত্রীদের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন রাধাকৃষ্ণন। মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনার উদ্দেশে যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নিচ্ছেন অধ্যাপক রাধাকৃষ্ণন, তখন তাঁর পড়ুয়ারা, ফুলসজ্জিত গাড়ির ব্যবস্থা করে, তাঁকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল।
  • বয়স যখন ১৬, দূর সম্পর্কের আত্মীয় শিবাকামুকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৫৬-য় তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়।
  • ১৯৫২-য় উপরাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন। কিন্তু তার আগে, অর্থাৎ ১৯৪৬-এ ইউনেস্কোর দূত হয়েছিলেন তিনি। এর পর সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের দূতও ছিলেন তিনি।১৯৬২-তে ভারতের রাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন। নোবেলজয়ী ব্রিটিশ দার্শনিক, বারট্রান্ড রাসেল বলেছিলেন, “ডঃ রাধাকৃষ্ণন ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়া মানে দর্শন বিষয়টার কাছে একটা আলাদা সম্মানের। আমিও নিজে দার্শনিক, তাই আমিও গর্বিত।”
  • রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর পড়ুয়াদের দাবি ছিল তাঁর জন্মদিনটা যেন বিশেষ ভাবে উদযাপন করা হয়। রাধাকৃষ্ণন বলেছিলেন, “জন্মদিন উদযাপন না করে সেই দিনটা যদি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়, তা হলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।” সেই থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের শিক্ষক দিবস।
  • ১৯৫৭-য় রাষ্ট্রপতি হিসেবে ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদের কার্যকাল শেষ হওয়ার পর, রাধাকৃষ্ণনকেই রাষ্ট্রপতি করতে চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। কিন্তু মৌলানা আজাদের তীব্র বিরোধিতায় সেটা হয়নি। ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ আরও পাঁচ বছর থাকেন। ১৯৬২-তে নেহরুর সক্রিয়তায় রাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন।
  • তাঁর রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালে দু’টো যুদ্ধে যেতে হয় ভারতকে। প্রথম ছিল ১৯৬২-এর চিন যুদ্ধ। রাষ্ট্রপতির আসনে বসার কয়েক মাসের মধ্যেই সেই যুদ্ধ। এর তিন বছর পরে ছিল পাকিস্তান যুদ্ধ।১৯৬৫-এর ২৫ জুন, জাতির উদ্দেশে ভাষণের সময়ে, রাধাকৃষ্ণন বলেন, “পাকিস্তান ভারতকে হয় খুব দুর্বল ভেবেছে, নয়তো খুব ভীত ভেবেছে। ভারত সাধারণত অস্ত্র হাতে তোলে না, কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে পাকিস্তানকে একটা শিক্ষা দেওয়া দরকার। পাকিস্তান যেটা ভেবেছিল, তার বিপরীতটাই হল।”১৯৬৪ সালে নেহরুর মৃত্যু হয়, এর ঠিক দু’বছর পরেই তাসকেন্তে আকস্মিক মৃত্যু হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর।
  • তাঁর জীবনীতে, বাবার ব্যাপারে রাধাকৃষ্ণনের ছেলে সর্বপল্লী গোপাল বলেছেন, “কখনও কোনো নিম্নমানের কাজ করেননি তিনি। কখনও কোনো নিম্নমানের চিন্তাও এসেছিল বলে মনে হয় না।”
  • ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখায় প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী কে নটবর সিংহ বলেছিলেন, রাধাকৃষ্ণনের মুখে নিজের বিরোধিতা মেনে নিতে পারেননি ইন্দিরা গান্ধী। তাই ১৯৬৭-তে দ্বিতীয় বার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ হারান রাধাকৃষ্ণন। নটবরের কথায়, “এটা রাধাকৃষ্ণনের কাছে বিশাল আঘাত ছিল।”

১৯৭৫-এর ১৭ এপ্রিল মৃত্যু হয় রাধাকৃষ্ণনের।

কেন পালন করা হয় -শিক্ষক দিবস:

শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষক দিবস’ পালিত হয়। এই দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন দিনে পালিত হয়ে থাকে।

শিক্ষক দিবস সম্পর্কে কিছু জানা-অজানা তথ্য:

বিশ্বে ১৯টি দেশে অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ ‘টিচার্স ডে’ পালিত হয়। কানাডা, জার্মানি, বুলগেরিয়া, আর্জেবাইজান, ইস্তোনিয়া, লিথোনিয়া, ম্যাকেডোনিয়া, মলদ্বীপ, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান , ফিলিপাইন, কুয়েত, কাতার, রাশিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়া, ইংল্যান্ড, মাউরেটিয়াস, মলদোভাতে পালিত হয়। আবার ১১টি দেশে ২৮ ফেব্রুয়ারি দিনটিতে শিক্ষক দিবস চালু রয়েছে। ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর থেকে ইউনেস্কো দ্বারা ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ দিনটি সূচিত হয়। এটি সারা দেশ-বিদেশে ‘শিক্ষক’ পেশাজীবীদের জন্য সেরা সম্মান। পরবর্তী প্রজন্মও যাতে কার্যকরী ও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে এই দিনটি পালন করে সেটাও উদ্দেশ্য।

এবার আরেকটু বিশদে জেনে নেওয়া যাক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনকে:

জন্ম – ৫ সেপ্টেম্বর ১৮৮৮
মৃত্যু –১৭ এপ্রিল ১৯৭৫
পিতা – সর্বপল্লী বীরাস্বামী
মাতা – সর্বপল্লী সীতা ( সীতাম্মা )
শিক্ষাজীবন
তাঁর প্রাথমিক জীবন কাটে তিরুুুুত্থানি ও তিরুপতি তে। তাঁর পিতা ছিলেন স্থানীয় জমিদারের খাজাঞ্চি ।

প্রাথমিক শিক্ষা – কে ভি হাই স্কুল,তিরুপতি

উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষা – হেরমানসবেরগ এভানজে লিকাল লুথেরান মিশন স্কুল,তিরূপতি এবং তারপর
গভ: হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল

তিনি খুব বুদ্ধিমান ছিলেন।
তিনি শিক্ষা জীবনে অনেক বৃত্তি লাভ করেছিলেন এবং সেই বৃত্তের সাহায্যেই তিনি তার পড়াশোনা চালিয়ে যান
তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা সচ্ছল ছিল না। দূর সম্পর্কের এক দাদার কাছ থেকে দর্শনের বই পান এবং তখনই ঠিক করেন তিনি দর্শন নিয়ে পড়বেন। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করার জন্য তিনি “বেদান্ত দর্শনের বিমুর্ত পূর্বকল্পনা ” (The Ethics of the Vedanta and its metaphysical Presuppositions) বিষয়ে একটি গবেষণা মূলক প্রবন্ধ লেখেন।

তিনি ভেবেছিলেন তাঁর গবেষণামূলক প্রবন্ধ দর্শনের অধ্যাপক বাতিল করে দেবেন। কিন্তু অধ্যাপক অ্যালফ্রেড জর্জ হগ তার প্রবন্ধ পড়ে খুবই খুশি হন। এই প্রবন্ধ যখন ছাপানো হয় তখন রাধাকৃষ্ণাণ এর বয়স ২০ বছর।

বৈবাহিক জীবন ও পরিবার

১৬ বছর বয়সে রাধাকৃষ্ণাণ তাঁর এক দুরসম্পর্কের বোন, শিবকামু র সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের পাঁচটি কন্যা সন্তান এবং একটি পুত্র সন্তান (সর্বপল্লী গোপাল) ছিল। তাঁরা ৫১ বছর বৈবাহিক জীবন যাপন করেন।

কর্মজীবন

১৯০৯ সালে সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি কলেজের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর তিনি মাইসর বিশ্ববিদ্যালয়,কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়,শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার কাজ করেন। সেই সময় তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় যিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছিলেন। মাইসর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা কালীন তিনি বেশকিছু পত্রিকা লেখেন – ‘The Quest’, ‘Journal of Philosophy’ এবং ‘International Journal of Ethics’.

রাজনৈতিক জীবন

তাঁর সফল কর্মজীবনের পরে রাজনীতি শুরু করেছিলেন। UNESCO তে তিনি স্বাধীন ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি (সময়কাল : ১৯৫২ – ১৯৬২ ) এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ( সময়কাল : ১৯৬২ – ১৯৬৭)।

পুরস্কার এবং সম্মান

১৯৩১: নাইট উপাধিতে ভূষিত হন
১৯৩৩-৩৭: পাঁচবার সাহিত্য বিভাগে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন

১৯৩৮: ব্রিটিশ একাডেমীর ফেলো হিসেবে মনোনীত হন

১৯৫৪: ভারত রত্ন

১৯৫৪: জার্মানির কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের সাম্মানিক পুরস্কার

১৯৬১: জার্মান বুক ট্রেড প্রদত্ত শান্তি পুরস্কার
১৯৬২: রাধাকৃষ্ণান কে সম্মান জানানোর জন্য ভারতবাসী ১৯৬২ সাল থেকে শিক্ষক দিবস পালন করা শুরু করে।
১৯৬৩: ব্রিটেনের অর্ডার অফ মেরিট
১৯৬৮: সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার
১৯৭৫: মৃত্যুর কিছুদিন আগে টেম্পলেশন প্রাইজ।

সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের ১০ টি বাণী ও উক্তি:

  • ৫ ই সেপ্টেম্বর আমার জন্মদিন করার পরিবর্তে শিক্ষক দিবস পালন করলে আমি অধিক সম্মানিত বোধ করব।
  • ধর্ম হল একটি আচরণ, কোনো বিশ্বাস নয়।
  • জ্ঞান ও বিজ্ঞান হল একমাত্র পথ যার জীবন আনন্দ ও খুশি তে ভরে উঠবে।
  • ঈশ্বর হল সমস্ত আত্মার আত্মা – সর্বোচ্চ চেতনা।
  • যখন আমরা ভাবি, আমরা জানতে পারি, আমাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ করি।
  • শিক্ষার সর্বোচ্চ ফল হওয়া উচিত একজন সৃজনশীল মানুষ, যিনি বিপরীত পরিস্থিতি এবং প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবেন।
  • বই হল একমাত্র পন্থা যার মাধ্যমে বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতির মিল ঘটানো সম্ভব।
  • ঈশ্বর আমাদের সকলের মধ্যে বাঁচে, অনুভব করে ও কষ্ট ভোগ করে এবং সময়ের সাথে তিনি আমাদের মধ্যে গুণ, জ্ঞান, সৌন্দর্য ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেন।
  • আপনার প্রতিবেশীকে ভালোবাসেন, কারণ আপনি নিজেই আপনার প্রতিবেশীও।আপনার প্রতিবেশী অন্য কেউ এটা একটা ভ্রম।
  • মানুষ হচ্ছে যৌক্তিকতা সত্তা ,দুনিয়ার গৌরব ও কলঙ্ক।

বিতর্ক

‘ইন্ডিয়ান ফিলজফি’ গ্রন্থের জন্য রাধাকৃষ্ণণ প্রসিদ্ধি।অভিযোগ উঠেছিল যে, সেটি আদপেই তাঁর লেখা নয়। সেটি নাকি লিখেছিলেন যদুনাথ সিংহ (১৮৯২-১৯৭৮)।

যদুনাথ ১৯১৭ সালে এমএ পাশ করার পর, তাঁর গবেষণাপত্রের প্রথম খণ্ড ১৯২২ সালে এবং দ্বিতীয় খণ্ড ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেমচন্দ রায়চন্দ স্কলারশিপের আবেদনের সঙ্গে জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগ: এই গবেষণাপত্রের দ্বিতীয় খণ্ড থেকেই অনেকটা নকল করে, রাধাকৃষ্ণণ গ্রন্থাকারে ১৯২৭ সালে লন্ডন থেকে স্বনামে প্রকাশ করেন। ওই সময়ে রাধাকৃষ্ণণ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন। যদুনাথ তাঁর অসাধারণ মেধা ও পাণ্ডিত্যের জন্য ১৯২৩ সালে গ্রিফিথ পুরস্কার, ১৯২৪ সালে মোয়াট মেডেল ও তার আগে ১৯১৫-১৬ সালে ক্লিন্ট মেমোরিয়াল ও ফিলিপ স্মিথ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।
রাধাকৃষ্ণণ গ্রন্থটি লন্ডন থেকে প্রকাশ করার বেশ কিছু দিন পর তা যদুনাথের নজরে আসে। তাঁর মতে, বইটির অনেকটা অংশ তাঁর গবেষণাপত্রের হুবহু নকল। তিনি ১৯২৯ সালের ২২ অগস্ট কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন। যদুনাথকে নানা ভাবে সহযোগিতা করেন ‘প্রবাসী’ ও ‘মডার্ন রিভিউ’ পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়।

অনেক দিন মামলা চলার পর, একটা ‘আউট অব কোর্ট সেট্‌লমেন্ট’ করা হয়। অনেকে বলেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানীন্তন উপাচার্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যদুনাথের উপর চাপ সৃষ্টি করেন, যাতে তিনি মামলা প্রত্যাহার করে নেন।যদিও ব্যাপারটা কতটা সত্যি তা নিয়ে সংশয় আছে।

তথ্যাসূত্র:বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাঁর সম্পর্কে প্রকাশিত লেখা।

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *