“লুক সেটে ফাইনাল হয়ে কল টাইম পেয়েও বাদ পড়েছি”: রিতিষা গাঙ্গুলি

“লুক সেটে ফাইনাল হয়ে কল টাইম পেয়েও বাদ পড়েছি”: রিতিষা গাঙ্গুলি

By Ramiz Ali Ahmed

রিতিষা গাঙ্গুলি

এতদিন পর্যন্ত তাঁকে কেবলমাত্র মাইথলজিক্যাল মেগাতেই দেখা যেতো।সে ‘মা দুর্গা’র উর্মিলা হোক বা ‘কিরণমালা’র মৃতুরানী বা ‘ওম নম: শিবা’য় চিত্রার চরিত্রে।সম্প্রতি তাকে দেখা গেছে সম্পূর্ণ অন্যরকম চরিত্রে-স্টার জলসার জনপ্রিয় মেগা ‘সাঁঝের বাতি’র ড: অমৃতা।তিনি রিতিষা গাঙ্গুলি।সম্প্রতি একান্ত আড্ডায় রিতিষা জানালেন,”মাইথলজিক্যাল চরিত্রগুলো করতে করতে একঘেয়ে লাগছিল।এই চরিত্রটা সম্পূর্ণ অন্যরকম।গ্লামারস চরিত্র।আক্রপলিস প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ।এরকম একটা ভালো চরিত্র আমাকে দেওয়ার জন্য আক্রপলিসকে অনেক ধন্যবাদ।”

শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস প্রযোজিত পথিকৃৎ বসুর পরিচালনায় ‘কে তুমি নন্দিনী?‘ ছবি দিয়ে তাঁর ফিল্মে ডেবিউ ।অভিনয় করেছেন ‘ডুবুরি’ ছবিতে।অভিনয় করেছেন ‘সমান্তরাল’,’বিলু রাক্ষস’,’জিও জামাই’-তেও তিনি অভিনয় করেছেন।
তাঁর প্রথম মেগা ‘বোঝে না সে বোঝে না‘ তে।তারপর অভিনয়কে আরো সুক্ষতি সুক্ষ করার জন্য দেড় বছর যাবৎ তিনি বিভিন্ন জায়গায় অভিনয়ের ওয়ার্কশপ করেন।এরপর তিনি কালার্স বাংলায় ‘মা দুর্গা’ মেগা সিরিয়ালে লক্ষণের স্ত্রীর চরিত্র করেন।স্টার জলসার ‘কিরণমালা’য় মৃত্যুর রানীর চরিত্রে অভিনয় করার পর তিনি স্টার জলসারই আরেক মেগা ‘প্রেমের কাহিনী‘ তে অভিনয় করেন।স্টার জলসার আরেক মেগা ‘ওম নম: শিবা‘য় তাঁকে দক্ষর মেয়ে চিত্রার চরিত্রে দেখা গেছে।আর এখন ডাক্তার অমৃতা।
পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি টিভিসি-ও করেছেন,যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আর এফ এল, প্রান পটেটো ক্রাকার ইত্যাদিতে।রানাঘাটে জন্ম ও শৈশব কাটানো রিতীষার অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কাটে রানাঘাটে।প্রচন্ড দুষ্টু থাকার কারনে বাবা তাঁকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেন।কলকাতার বরাহনগর মোহন গার্লস থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পর জর্জ কলেজ থেকে বি সি এ কমপ্লিট করার পর চাকুরীও পান।কিন্তু অফিসের ১০টা ৫ টা ডিউটি তাঁর কখনও ভালো লাগেনি।ছোট থেকেই ক্লাসিক্যাল ড্যান্সের তালিম নিতেন রিতিষা, আর নিয়মিত বিভিন্ন ড্যান্স ড্রামায় পারফর্ম করতেন ,তখন থেকেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা জন্মায়।আর পরবর্তীকালে সেই ভালবাসা থেকেই চাকুরীর মতো নিশ্চিত জীবন ছেড়ে বেছে নিলেন অনিশ্চিয়তার জীবন অভিনয়কে।বাড়ি থেকে প্রথমে তো একদমই কেউ সাপোর্ট করেননি।কথায় কথায় রিতিষা জানালেন,”আমার বাবা একজন টেক্সটাইল ডিজাইনার, আর মা গৃহবধূ-ওনারা একদমই চাননি যে আমি অভিনয়টাকে পেশা করি। রানাঘাটে আমাদের একান্নবর্তী পরিবার, পরিবারের সবাই এখন অবশ্য খুব খুশি”।রিতিষা এখন দক্ষিণ কলকাতার সন্তোষপুরের একটি ফ্লাটের বাসিন্দা।বাবা, মা-কে নিয়ে ওখানেই তিনি থাকেন।


ভবিষ্যতে ভালো ভালো চরিত্রে তিনি অভিনয় করতে চান বলে জানালেন।মেগা সিরিয়াল ও সিনেমা দুই মাধ্যমেই ভালো ভালো চরিত্রে অভিনয় করতে চান তিনি।ভাত, ডাল,আলু পোস্ত, শুক্তো অভিনেত্রীর খুব পছন্দের মেনু।প্রেম,বিয়ে প্রসঙ্গে অভিনেত্রীকে প্রশ্ন করলে হেসে বললেন,”প্রেম করি তো!হ্যাঁ একজনকে পছন্দ হয়েছে বটে কিন্তু এখনই কিছু জানাচ্ছি না,পরে নিশ্চয়ই জানাবো।”
অভিনয় করেছেন ওয়েব সিরিজেও যদিও এখনও মুক্তি পায়ন ।অভিনয় ছাড়া অভিনেত্রী বই পড়তে, গান শুনতে, সিনেমা দেখতে,মায়ের সঙ্গে গল্প করতে ভালোবাসেন।এখন যেহেতু করোনার জন্য শুটিং বন্ধ তাই বাড়িতেই পুরো সময় থাকছেন।নিয়মিত স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুতে ভুলছেন না।শুধু নিজে নয় অভিনেত্রী জন সচেতন করার জন্য বাড়িতে স্যানিটাইজার বানিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরনও করছেন।অর্ডার দিয়ে মাস্ক আনিয়েও বিতরণ করছেন।সবাইকে বাড়িতে থাকতে এবং সাবধানে থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন।

অভিনেত্রী ঘুরতে খুব ভালোবাসেন,পাহাড় অভিনেত্রীর খুব পছন্দের।ইন্ডাস্ট্রির বন্ধু আছে কিনা জানতে চাইলে চাইলে অভিনেত্রী জানালেন,”ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকের সাথে সক্ষতা আছে, কিন্তু বন্ধু বলতে যা বোঝায় সেরকম বন্ধু বলতে কেউ নেই।”

কোনও তিক্ত অভিজ্ঞতা?”এরকমও হয়েছে লুক সেটে ফাইনাল হওয়ার পর কল টাইম দিয়ে দিয়েছে।পরের দিন ভোরবেলা যখন রেডি হচ্ছি তখন জানতে পারলাম আমি বাদ।শুরু শুরু তে এরকম দুএকবার ফেস করেছি”।বললেন অভিনেত্রী।
আর ছোটপর্দার কাস্টিং কাউচ প্রসঙ্গ তুলতেই অভিনেত্রী জানালেন,”সত্যি বলতে কি এই ব্যাপারে আমি লাকি,সেরকম কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি।”
অবশেষে তিনি পাঠকদের উদ্দেশ্যে বললেন,”দর্শকদের ভালবাসা পেতে চাই।দর্শকরা যেন আমাকে সবসময় ভালোবাসেন”।
লকডাউন পরবর্তীতে রিতিষা শুট করলেন জনপ্রিয় ব্র্যান্ড নেক্সজেন-এর।খুব শীঘ্রই তার নতুন মেগা আসতে চলেছে।এখন তারই প্রস্তুতিতে তিনি ব্যস্ত।

প্রিয় খাবার:-ফুচকা
প্রিয় রং:সব রং ,কারণ আমি রঙিন
প্রিয় অভিনেতা : ভিকি কৌশল
প্রিয় অভিনেত্রী:দীপিকা পাড়ুকোন

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *