গবেষণায় জানা গেছে, বিশুদ্ধ বাতাস উপভোগ করার জন্য কলকাতার বাসিন্দারা বৈদ্যুতিক যানবাহন কিনতে প্রস্তুত

0
30

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইকো পার্কে নিউ টাউন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনকেডিএ) আয়োজিত ৩ দিনের ইলেকট্রিক ভেহিকেল কার্নিভালে মাল্টি স্টেকহোল্ডার মিটে সুইচঅন ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করা হয়েছে।গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে ৭৬.৮% মানুষ বিশ্বাস করেন যে ইভি -তে স্থানান্তর করলে বাতাসে দূষণের মাএা কমবে ফলে বাতাসের মান উন্নত হবে। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল বৈদ্যুতিক যানবাহন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং এই প্রতিবেদনটি আমাদের সাহায্য করেছে সেইসব ক্ষেত্রগুলিকে খুঁজে বের করতে যেগুলির দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।এছাড়াও জানা গেছে যে, ইভি মালিকানা পেতে ইচ্ছুক মানুষের সংখ্যা ৫৩.৩%, ৭৫% মহিলারা তাদের নিজস্ব একটি ইভিতে বিনিয়োগ করতে চান।

২ রা অক্টোবর ২০২১ তারিখে কার্নিভালে সুইচঅন ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার সভায় বিশিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, আইআইএম কলকাতা প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট অধ্যাপক, ইউইএম, প্রধান ব্যবসায়ী এবং ইভি স্টার্টআপ সহ-প্রতিষ্ঠাতা একত্রিত হয়ে বৈদ্যুতিক গতিশীলতার মসৃণ রূপান্তর নিয়ে আলোচনা করেন।সমস্ত স্টেকহোল্ডাররা তুলে ধরেছেন যে, শহরগুলিতে বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান অবদানকারী হলো পরিবহন বিভাগ এবং এটিকে সুস্থায়ী গতিশীলতায় রূপান্তর করার জন্য শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।বৈদ্যুতিক যানবাহনের নির্গমন শূন্য এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম। পরিবেশ বান্ধব এই যানের ব্যাটারি প্রতিস্হাপনের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই ব্যবহারের পরিমাণের উপর নির্ভর করে।

হিডকো লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী দেবাশীষ সেন তার মূল বক্তব্যে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি ইভি নীতি নিয়ে এসেছে, অনেক মানুষ ইভি কিনতে এগিয়ে আসছে, কিন্তু সে ক্ষেত্রে তারা অর্থ বিনিয়োগ করার সমস্যার সমুখীন হচ্ছেন, এবং এই সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা কোম্পানি এবং ব্যাঙ্কগুলিকে একত্রে নিয়ে আসছি”

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সুইচঅন ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিনয় জাজু বলেন, “এটা সময়ের ব্যাপার যে বৈদ্যুতিক যানবাহন জ্বালানি ভিত্তিক যানবাহন দখল করবে এবং এই পরিবর্তন আলো বিপ্লবের মতোই দ্রুত হবে।এটা শুধু অর্থ সাশ্রয় নয় বরং বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করবে যা ভবিষ্যতে ইভিগুলির চাহিদা বাড়াবে।”

কার্নিভাল বৈঠকটি ছিল সুস্থায়ী গিতিশীলতা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করার প্রচেষ্টা এবং জ্বালানি ভিত্তিক যানবাহন ও বৈদ্যুতিক যানবাহন গতিশীলতায় মোটরবিহীন পরিবহন নিয়ে আলোচনা করার জন্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের একত্রিত করা।

আইআইএম কলকাতার প্রফেসর চন্দ্রদীপ মিত্র যিনি নিজেও গত ৫ বছর ধরে ইলেকট্রিক যান চালাচ্ছেন তিনি বলেন, “ইলেকট্রিক যানবাহনকে অধিকতর গ্রহণের জন্য বহু-স্টেকহোল্ডারদের একত্রিত হওয়া প্রয়োজন যার মধ্যে রয়েছেন–নির্মাতা, সরকার, মিডিয়া, পরিষেবা প্রদানকারী, হাউজিং সোসাইটি এবং অবশ্যই ক্রেতা। বিশিষ্ট প্রভাবশালী সমালোচক দল তৈরী করতে এবং এর শক্তি ব্যবহার করতে পারলে তবেই ইভি-র ব্যবহার অধিক ভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে।”

গোলটেবিলে নিউ টাউন বিজনেস ক্লাবের নেতৃত্বদানকারী কর্নেল ইন্দ্রজিৎ রায় বলেন, “এখন সময় এসেছে ব্যবসায়ীরা তাদের বহরকে বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরিত করে সুস্থভাবে শ্বাস নিতে সাহায্য করুন, সুস্থ থাকুন,এবং আরও লাভজনক হোক।এটি ব্যবসার জন্য এবং আমাদের বাচ্চাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।”

সংগৃহীত তথ্যের বিশ্লেষণ অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২৬% উত্তরদাতা সম্প্রতি চালু হওয়া ইভি নীতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন।২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি, যা ৩রা জুন প্রকাশিত হয়েছিল, রাস্তায় ১০ লক্ষ ইভি সক্ষম করতে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ চার্জিং স্টেশন তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য্ শূন্য পরিবহন নির্গমন অর্জনের প্রচেষ্টা।

আগামী পরিকল্পনাগুলির মধ্যে জরুরি হল, ইভি-র আর্থিক ও অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়ে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা, চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ইভি-কে বেশি দূরত্বে চলাচলের্ উপযুক্ত করে তোলা এবং সুস্থায়ী ভবিষ্যতের প্রেরণা হিসেবে ইভি কেনার জন্য ভর্তুকি প্রদান করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here