“আমার কাছে চরিত্র চরিত্রই, সেটা মা,কাকিমা বা বৌদি ম্যাটার করে না”:রিমঝিম গুপ্ত

“আমার কাছে চরিত্র চরিত্রই, সেটা মা,কাকিমা বা বৌদি ম্যাটার করে না”:রিমঝিম গুপ্ত
মা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌমিতা গুপ্ত,বাবা নামকরা সাংবাদিক ও লেখক বাল্মীকি চট্টোপাধ্যায়।সেই সুবাদে খুব ছোট থেকেই বিভিন্ন ফিল্ম পার্টি,অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ ঘটতো।এইভাবে অনেকে যখন দেখতো,তার মায়ের কাছে সবাই তাকে অভিনয়ের জন্য বলতেন।তখন তিনি সবেমাত্র ইলেভেনের ছাত্রী।সেই সময় ইটিভি বাংলার “জুগ জুগ জিও” ধারাবাহিকের পাইলটে সুযোগ পান।যদিও সেটাতে তার কাজ করা হয়ে ওঠেনি।কিন্তু মনের মধ্যে একটা কনফিডেন্স তৈরি হয়ে যায়।এরপর তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের কাজ করতে থাকেন।একদিন সুযোগ চলে এল ‘রাস্তা’ ছবিতে,মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ।বাংলা ছবিতে তার ডেবিউ ঘটে গেল।ইন্ডাস্ট্রি পেল নতুন এক নায়িকাকে।এতক্ষনে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন কার কথা বলছি।….হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন তিনি রিমঝিম গুপ্ত।তারপর ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে একটা যৌথ প্রযোজনার ছবি করলেন।ছবিতে তিনি ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত,ফেরদৌস এবং অমিতাভ ভট্টাচার্যের সঙ্গে।এরপর আবার মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে ‘বারুদ’ ছবিতে অভিনয় করলেন।এখানে তাকে দেখা গেল মিঠুন চক্রবর্তীর বোনের চরিত্রে।এরপর আবার মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে ‘কুলি’ ছবিতে একটা ক্যামিও চরিত্রে। তারপরই আবার মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গেই ‘রাজবাবু’ ছবিতে তাঁর নায়িকার চরিত্রে।তারপর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘তবুও ভালোবাসি’ ছবিতে অভিনয়।এরপরও বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করলেন।মিঠুন চক্রবর্তীর মতো অভিনেতার সঙ্গে কেরিয়ারের শুরুতেই পরপর কাজ।কেমন অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে জানালেন,”ওনার মতো এতো সিম্পেল মানুষ, এতো মজার মানুষ,ওনাকে দেখলে মনে হয়না।শুটিং-এর সময় তিনি এর পিছনে ওর পিছনে এতো মজা করে লাগেন ভাবা যায়না,কাজের সময় তিনি সবায়ের কাজটা দেখেন।’রাজবাবু’র সময় তিনি বলতেন তার সঙ্গে বসে রিয়ার্সাল করে নেওয়ার জন্য।এমনকি যখন যীশু সেনগুপ্তর সঙ্গে শুটিং থাকতো তিনি ক্যামেরার পিছনে দাঁড়িয়ে দেখতেন।খাওয়া দাওয়ায় একদম বাঙালিয়ানা।’লাল পাহাড়ির কথা’ বলে একটা আর্ট ছবি করেছিলাম।ছবিটা করেছিলেন রেমো ডিসুজা।ওখানেও আমি মিঠুন দার বিপরীতে ছিলাম।আমি ছোট বেলাটা করেছিলাম আর আমার মা বড় বেলাটা করেছিল।ছবিটার পুরো শুটিং হয়েছিল পুরুলিয়াতে।সেই সময় মাওবাদী সমস্যা চলছিল।তো সেজন্য কোনও গেস্ট হাউসে থাকা যায়নি,একটা স্কুল বাড়িতে থাকতে হয়েছিল।আমরাই সেখানে মানিয়ে নিতে পারছিলাম না,কিন্তু মিঠুন দা দিব্যি সেখানে মানিয়ে নিয়েছিলেন।আমি তো মিঠুন দার উটি,মনার্ক হোটেল দেখেছি,সেই মানুষটা এরকম ভাবে থাকতে পারে ভাবতেই পারিনি।ইটে বসে উঠনে রান্না করছেন।ওনার হসপিটালিটি অসাধারণ।”আপনি যখন হঠাৎ কাজ ছাড়লেন তখন আপনি জনপ্রিয়তার জায়গায় সেই সময় অভিনয় থেকে হঠাৎ সরে গেলেন কেন? অভিনেত্রী উত্তরে জানালেন,”আমি ২০১৩ পর্যন্ত কাজ করেছিলাম।কিন্তু ১২-১৩ এর দিকে যে কটা ছবি করেছিলাম সেগুলোতে আমি স্যাটিসফায়েড ছিলাম না।তারপর হঠাৎ আমার শরীর খারাপ হয়ে যায়,আমার একটা বড় অপারেশন হয়।প্রায় একবছর রেস্টে থাকতে হয়েছিল।এরপর ২০১৫ তে আমার বিয়ে হয়ে যায়।সব মিলিয়ে প্রায় ৫ বছরের উপরে আমি ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে ছিলাম।”এখন তিনি ফিরে এসেছেন আবার ইন্ডাস্ট্রিতে।তবে এটা বড় পর্দায় নয়,ছোটপর্দায়।সান বাংলায় ‘জিয়নকাঠি’ মেগায় নায়িকার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন।একজন জনপ্রিয় নায়িকা হঠাৎ মায়ের চরিত্রে?নায়িকা হেসে জানালেন,”আসলে আমি একটু ওয়েট গেন করে গেছি।আর মেগায় তো বেশ ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কাজ করে।আর আমার কাছ চরিত্র চরিত্রই।একটা সময় নায়িকা করে গেছি,এখন আমার মনে হয় আমার মা যে ধরনের চরিত্র করে,একটা চরিত্রের সঙ্গে আরেকটা চরিত্র আলাদা-এরকম করতে চাই।আমি ভীষণ খুশি এই চরিত্রটা নিয়ে।” চরিত্রটা কিরকম?”মায়ের চরিত্র,খুব সিম্পল এবং পজিটিভ ক্যারেক্টার।” আপনার কি মনে হয়না মায়ের চরিত্র করার পর একটা তকমা লেগে গেল ওই মা কাকিমার?অভিনেত্রীর সটান উত্তর,”আমি তো আগেই বললাম আমার কাছে চরিত্র চরিত্রই, সেটা মা,কাকিমা বা বৌদি ম্যাটার করে না।”কিন্ত আপনি বড়পর্দার অভিনেত্রী, বড়পর্দায় যেহেতু এতো শুটিং-এর চাপ থাকে না কিন্তু মেগায় শুটিং-এর চাপটা অনেক তো অনেক বেশি?”আমি প্রচন্ড কাজ ভালোবাসি বরঞ্চ যখন শুটিং থাকে না তখন বোরিং ফিল করি।আরো বেশি বেশি করে কাজ করতে চাই।অভিনয়টা করতে তো ভালোবাসি,তাইতো করি।”উত্তরে জানালেন অভিনেত্রী।অভিনেত্রী মনে করেন মেগা এখন অনেক বেশি জনপ্রিয়।তিনি নিয়মিতভাবে মেগা করতে চান এবং বিভিন্ন রকম চরিত্র করতে চান।ওয়েব সিরিজেও অভিনয় করতে চান বলে জানালেন অভিনেত্রী।রিমঝিমের প্রেম পর্বটা ও বিয়েটাও একদম সিনেমার মতো।তখন রিমঝিম শ্রীরামপুর হলি হোম স্কুলের ছাত্রী।ক্লাস সিক্সে পড়েন,সেই সময় ক্লাস নাইনের এক ছাত্র তাকে বেশ ফলো করে,যখন সেভেনে উঠলেন ছেলেটি তার মনের কথা বলে দিল।যদিও পরে ব্রেক আপ হয়ে যায়।কিন্তু আবার বেশ কিছু বছর পরে আবার তার সঙ্গেই নতুন করে প্রেম এবং বিয়ে।রিমঝিম পারিবারিক মানুষ হিসেবে কেমন?”আমি ভীষণ ভাবে পারিবারিক।শুটিং না থাকলে কিছু না থাকলে আমি বাড়ি থেকে বেরোতে চাইনা।আমি বাড়ি থাকতে ভীষণ ভালোবাসি।ঘরের সমস্ত কাজের মধ্যে থাকতে পছন্দ করি।তবে রান্নায় খুব একটা ইন্টারেস্ট নেই।তবে অন্য সব কাজ করি।বাড়িতে পাঁচটি পোষ্য(কুকুর) আছে তাদেরকেও সময় দিতে হয়।”জানালেন অভিনেত্রী।সুন্দরী এই অভিনেত্রী কিন্তু খুব ফুডি।খেতে খুব ভালোবাসেন।বাঙালি খাবার তার সবচেয়ে পছন্দ।পছন্দ কন্টিনেনটালও তার পছন্দের।তবে প্রচন্ড ভালোবাসেন ডিম খেতে।ডিম এতটাই পছন্দের যে ভাত,একটু ঘি আর ডিম হলে তার আর কিছু দরকার পড়ে না।

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *