অমলা শঙ্করের লেখনীতে মুগ্ধ হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ,সুভাষচন্দ্র

অমলা শঙ্করের লেখনীতে মুগ্ধ হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ,সুভাষচন্দ্র

✍️পৃথা ঘোষ

তৎকালীন যশোর থেকে কলকাতায় এসেছিল ছোট্ট মেয়েটি।এরপর স্বপ্নের শহর প্যারিস বদলে দিয়েছিল তাঁর ভবিতব্যকে।১৯৩১ সাল,ইন্টার ন্যাশনাল কালোনিয়াল এক্সিভিশনে আমন্ত্রন পেলেন অক্ষয় কুমার নন্দী।প্যারিসে যাওয়ার তিনদিন আগে ঠিক করলেন সঙ্গে নিয়ে যাবেন মেয়ে অমলাকে।অমলাশঙ্করের তখন ১১ বছর বয়স।জানতে পারলেন সেখানে কিছু ভারতীয় আসবেন।তাঁর কথায় ,আমি তখন এতই ছোট, যে জানতাম না ওঁরা কারা।শুনেছিলাম ওঁরা খুব বিখ্যাত ।ভেবেছিলাম,তাহলে রবীন্দ্রনাথ এসেছেন হয়তো। সেখানেই প্রথম আলাপ হয়েছিল উদয়শঙ্করের সাথে অমলাশঙ্করের।তারপর সেখান থেকে ফিরে এসে ইউরোপ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখে ফেললেন একটি বই নাম ‘সাত সাগরের পারে’।বইটি পড়ে প্রশংসা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ,সুভাষচন্দ্র,অবনীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন,সাত সাগরের পারে গ্রন্থখানিতে কুমারী অমলা নন্দী তাঁর য়ুরোপ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা সরল ভাষায় লিপিবদ্ধ করেছেন।ঐ মহাদেশ যাদের কাছে অপরিচিত,তাঁরা এ বই পড়ে অনেক খবর পাবেন এবং খুশি হবেন।ছোট থেকেই তিনি অসম্ভব প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। নৃত্যশিল্পীর পাশাপাশি একজন অসাধারন লেখিকা ও চিত্রশিল্পী ছিলেন তিনি।এর কয়েক বছরপর তিনি উদয়শঙ্কর ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টারে তালিম নিতে শুরু করেন।স্বয়ং সুভাষচন্দ্র বসু নাকি অক্ষয়বাবুকে রাজি করিয়েছিলেন অমলাদেবীকে আলমোড়ায় পাঠানোর জন্য। এরপর ধীরে ধীরে শঙ্কর ব্রিগেডের অন্যতম প্রধান সেনানী হয়ে ওঠেন তিনি। তখন তার বয়স ১৯।একদিন হঠাৎ উদয়শঙ্কর তাঁর ঘরে এসে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন।ঘটনার আকস্মিকতায় কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি।এরপর তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।তারপর উদয়শঙ্করের পরিচালিত কালজয়ী ছবি কল্পনা মুক্তি পায়।দেশে-বিদেশে সমাদৃত হন তিনি। সত্যজিৎ রায় তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে জিঞ্জাসা করে ছিলেন,অভিনয় করেন না কেন? সেই সময় কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহনকারী সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনিই। তারপর বহু সময় কেটেগিয়েছে,জীবনে দেখেছেন বহু উত্থান-পতন ।জগৎ শ্রেষ্ট এই জুটির দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল দেখা দিয়েছে,আলাদা থাকতেন তাঁরা।১৯৭৭ সালে উদয়শঙ্কর যখন প্রয়াত হন,তখন তাঁর শেষ দিন গুলিতে সঙ্গে ছিলেন অমলাদেবী।এত ঝড়ঝাপটার পরও নিজের লক্ষ্য থেকে বিন্দু মাত্র বিচ্যুত হননি ।৮০ বছর বয়স অবধি তিনি ছাত্রছাত্রীদের তালিম দিয়েছেন।এমনকি শেষ বয়সে অপর্ণা সেনের আব্দার করতেন এমন একটা সিনেমা বানাতে যেখানে তিনি আবার নাচ করতে পারবেন। এমন এক নক্ষত্র পতনে সর্বোপরি ভারতীয় সংস্কৃতির স্বর্ণযুগের অবসান হল।

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *